শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সুন্নাতে খৎনার বিরুদ্ধে মারাত্মক ষড়যন্ত্র! - নিমু মাহবুব।

 বাড়িতে যখন ওস্তা বেডা আসলেন তখন সময়টা ছিল যোহরের নামাজের খানিক আগে বা পরে। আমাকে একটা পিঁড়িতে বসানো হলো। মুন্সি বাড়ির চাচাতো ভাই রহিম হাত দিয়ে আমার চোখ বন্ধ করে রাখলো। ওস্তা বেডা ( খলিফা) কি করলেন জানি না। মনে হলো পিঁপড়ের কামড়। তারপর তিনি পট্টি বেঁধে দিলেন। কয়েকদিন পর ভালো হয়ে গেল। অবস করার কোন ঔষধ দূরে থাকুক কাটার পরে কোন ঔষধ দিয়েছিল কিনা আমার ঠিক মনে নেই। এই হলো আমার "ওস্তা কাম" বা  "সুন্নাতে খৎনা" কিংবা মুসলমানি করানোর ইতিহাস। 

খবরে দেখলাম খৎনা করাতে গিয়ে মৃত্যু! তাও আবার হাসপাতালে! প্রশিক্ষিত ডাক্তারের হাতে! কি ভয়ঙ্কর! 

আমাদের সময়ে যিনি খৎনার কাজ করতেন তার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ ছিল না। তথাপি তার হাতে খৎনা করার পর কোন সমস্যার কোন নজির আমরা দেখি নাই।  অতীতকালে কারো কোন সমস্যা হয়েছিল বলে আমরা শুনি নাই। মৃত্যু তো দূর কি বাত! তাহলে আধুনিক যুগে হসপিটালে এমবিবিএস ডাক্তারের হাতে খৎনা করাতে গিয়ে মৃত্যু শুধু অসম্ভব নয় অচিন্তনীয়ও বটে। এটা সরাসরি হত্যা*কান্ড। আমরা মনে করি এটা সুন্নাতে খৎনার বিরুদ্ধে একটা গভীর চক্রান্ত। এটার তদন্ত হওয়া জরুরী। 


গার্ডিয়ান যারা আছে তাদেরও সমস্যা আছে। তারা বাচ্চাদেরকে একদম ফার্মের মুরগির মতো করে লালন- পালনে অভ্যস্ত। বাচ্চার শরিরে একটু আঁচড় লাগলে, একটু ব্যথা পেলে এমনি বাচ্চা একটা হাঁচি দিলেও তারা হার্টফেল করে বসে থাকেন। তাদের জন্য করুণা।


মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৩

চর্মনাইয়ের পীর- নিমু মাহবুব



সত্যের দুয়ারে হানি আঘাত
আমরা আনি তিমির রাত
খেয়ে যাই ধর্মের ক্ষীর
আমরা চর্মনায়ের পীর।

কুরআন হাদিসের ধার ধারি না
"ভেদে মারেফত" না ছাড়ি না
"আশেকে মাশুক" পড়ি অস্থির
আমরা চর্মনায়ের পীর।

আল্লাহ ওয়ালাদের দূরে ঠেলিয়া
নাস্তিকেরে কোলে তুলিয়া
উচ্চে ধরি শির
আমরা চর্মনায়ের পীর।

বেগুন- পেঁয়াজেরে মুরিদ বানাই
বাঘ সাপেরে পোষ মানাই
বাঁশের আগায় বানাই নীড়
আমরা চর্মনায়ের পীর।

ধর্মের নামে ব্যবসা খুলিয়া
মুরিদরে সব কিস্তিতে তুলিয়া
একসাথে জাহান্নামে যাই
আমরা পীরে চর্মনাই।

ওয়াজের মাঠে গল্পো বলিয়া
মানুষেরে ভুলভাল বুঝাইয়া সুজাইয়া
সতের হাজার কোটি মাল কামাই
আমরা পীরে চর্মনাই।

শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২২

হতাশ নই প্রভু

 যদি মহাকাশের দিগন্তে

না থাকে কোন ছায়াপথ

যদি তারকারাজি হারায়

জোছনার সোজা রথ।

যদি সূর্যের হাসিটা

শেষ হয় হঠাৎ করে

যদি চন্দ্রটা না উঠে

ঠিক প্রহরে।

যদি সব মহাসমুদ্রের 

সব পানি যায় শুকিয়ে

যদি অক্সিজেন বায়ু থেকে

যায় হারিয়ে। 

যদি দিনের আলো শেষে

রাত না নামে

যদি রাতের আঁধারটা

আর না থামে।

যদি মেঘ থেকে আর

বৃষ্টি না ঝরে

যদি সব গাছের পাতা

যায় ঝরে পড়ে।

যদি মরুভূমির বালিয়াড়ি

সব যায় হারিয়ে

যদি পৃথীবির সব মাটি

যায় হাওয়া মিলিয়ে।

যদি আকাশ, মহাকাশ

পৃথীবি, কিছু না থাকে

যদি সব কিছু ধ্বংস হয়

কেয়ামতসম ঘূর্ণিপাকে।

তবু প্রভু তব রহম থেকে

হই না নিরাশ

জানি- মানি তুমি চাইলে

মোরা হবো না বিনাশ।


মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১

তোবা! তোবা!! ( তওবা! তওবা) - নিমু মাহবুব।

 গত পোস্টে বলেছিলাম কুরআনে গোল্লাছুট খেলার কথা। এবার বলবো কুরআন মজিদে নারী স্বভাবের সার্বজনীনতা সম্পর্কে। ছোট বেলায় গ্রামের বাড়িতে দেখেছি কোন মহিলার সামনে তার সম্পর্কে  অবাস্তব,  অবিশ্বাস্য, মিথ্যা কিংবা আশ্চর্য্য কোন কথা বললে তিনি তৎক্ষণাৎ নিজের  দু'গালে হাত দিয়ে চপড়াতেন আর মুখে  তোবা! তোবা!! ( তওবা! তওবা) আস্তাগফিরুল্লাহ!!! বলতেন। কিন্তু খোদ একজন নবীর বউয়েরও যে এরকম সহজাত স্বভাব থাকতে পারে তা জানলাম সুরা যারিয়াত পড়ে।

ইব্রাহিম আঃ প্রায় ৪৬০০ বৎসর পূর্বে বর্তমান ইরাকের বাবেল শহরে বসবাস করতেন। তার প্রথম বউ সারাহ রাঃ ছিলেন বন্ধা। তারা উভয়ে বৃদ্ধ হয়ে গেলেন। কিন্তু তাদের কোন সন্তান নেই। এ নিয়ে তাদের মনে দুঃখ ছিল কিনা কে জানে। 

এদিকে তৎকালে হযরত লুত আঃ এর কাওম ব্যভিচার ও সমকামিতায় চরমভাবে লিপ্ত হয়ে পড়লে আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাই আল্লাহ জিবরাইল, ইসরাফিল ও মিকাইল ফেরেশতাকে মানুষরূপে দুনিয়াতে পাঠালেন কাওমে লুতকে ধ্বংস করার জন্য। লুত আঃ ছিলেন হযরত ইব্রাহিম আঃ এর ভাতিজা। সম্মানিত ফেরেশতারা প্রথমে হযরত ইব্রাহিম আঃ এর বাড়িতে তাশরিফ নিলেন। ইব্রাহিম আঃ ছিলেন খুবই মেহমানপ্রিয় নবী। তিনি প্রথমে ফেরেশতাদেরকে মানুষ মনে করলেন। তাই তাড়াতাড়ি একটা  গরু জবাই করে গরুর গোস্ত ভাজি করে তাদেরকে খেতে দিলেন। 

কিন্তু ফেরেশতাদের পানাহার আল্লাহর বিধানে নেই। তাই তারা অপারগ হয়ে নিজেদের পরিচয় দিলেন। আর তাদের দুনিয়াতে আগমনের কারণও জানালেন যে, তারাদেরকে কাওমে লুতকে ধ্বংস করার জন্য পাঠানো হয়েছে। এটা শুনে ইব্রাহিম আঃ খুব চিন্তিত হয়ে গেলেন। কারণ তিনি ছিলেন খুবই নরম আর কোমল মনের মানুষ।  এরপর ফেরেশতারা হযরত ইব্রাহিম আঃ ও তার বউ সারাহ রাঃ সুসংবাদ দিলেন যে, আল্লাহ তাদের একটি পুত্র সন্তান ইসহাক আঃ কে দান করবেন।  দেখুন কুরআন কি বলে, 

فَاَقْبَلَتِ امْرَاَتُهٗ فِیْ صَرَّةٍ فَصَكَّتْ وَجْهَهَا وَ قَالَتْ عَجُوْزٌ عَقِیْمٌ

"একথা শুনে তার স্ত্রী চিৎকার করতে করতে অগ্রসর হলো। সে আপন গালে চপেটাঘাত করে বললোঃ বুড়ী,  বন্ধ্যা"।( ৫১: আয-যারিয়াত, আয়াত: ২৯)।  ইতিহাস মোতাবেক হযরত ইব্রাহিম আঃ এর তখন বয়স ছিল ১০০ বছর আর তার বউ সারাহ রাঃ এর বয়স ছিল ৯০ বছর।

 হযরত ইব্রাহিম আঃ কে সুসন্তানের সুসংবাদ দিয়ে ফেরেশতারা এবার হযরত লুত আঃ এর বাড়িতে গেলেন। তিনিো প্রথমে তাদেরকে চিনতে পারেননি। পরে চিনতে পারেন। পরদিন সকালে ফেরেশতারা কাওমে লুতকে তাদের পাপাচার কারণে তাদেরকে ধ্বংস করে দিলেন। শুধু হযরত লুত আঃ এর পরিবারকে ধ্বংস হতে রক্ষা করলেন। কিন্তু তার বউকে রক্ষা না করে পুরো কাওমের সাথে ধ্বংস করে দেয়া হলো। কারণ লুত আঃ এর বউ ছিল পাপাচারী দের দলে।

কুরআনের ভাষ্যমতে, 

فَجَعَلْنَا عَالِیَهَا سَافِلَهَا وَ اَمْطَرْنَا عَلَیْهِمْ حِجَارَةً مِّنْ سِجِّیْلٍؕ

"এবং আমি সেই জনপদটি ওলট পালট করে রেখে দিলাম আর তাদের ওপর পোড়া মাটির পাথর বর্ষণ করলাম।"  ১৫ নং সুরা আল-হিজর, আয়াত: ৭৪।

(১১ নং সুরা হুদ, ১৫ নং সুরা হিজর ও ৫১ নং সুরা যারিয়াত এবং তাফসীরে ইবনে কাসীর ও তাফহীমুল কুরআন অবলম্বনে)





সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১

কুরআনে গোল্লাছুট - নিমু মাহবুব

 



কুরআন শরিফ পড়লে শুধু সওয়াব না অনেক দারুণ আর  মজার জিনিসও জানা যায়। এই ধরুন গোল্লাছুট খেলার কথা। কুরআন শরিফে গোল্লাছুট খেলার বর্ণনা পড়ে আমি কিঞ্চিৎ আশ্চর্য্য হয়ে যারপরনাই আনন্দ পেলাম। প্রায় ৩৫০০ (সাড়ে তিন হাজার) বছর আগে ফিলিস্তিনের কেনান শহরে গোল্লাছুট খেলা প্রচলিত ছিল।

 ইউছুপ আঃ এর বদের হাড্ডি সৎ ভাইয়েরা তাকে অন্ধকূপ ফেলে দিয়ে তাদের বাবা নবী ইয়াকুব আঃ এর কাছে এসে "বললঃ হে আমাদের পিতা! আমরা 'গোল্লাছুট' খেলছিলাম এবং ইউসুফকে আমাদের মালপত্রের নিকট রেখে গিয়েছিলাম, অতঃপর তাকে নেকড়ে বাঘ খেয়ে ফেলেছে; কিন্তু আপনিতো আমাদের বিশ্বাস করবেননা, যদিও আমরা সত্যবাদী।" (১২ নং সূরা ইউছুপ, আয়াত নং -১৭) 


ছোট বেলায় কত মজা করে গোল্লাছুট খেলেছি। আহ! কোথায় সে দিনগুলি! এখনকার পোলাপান তো ফুটবল আর ক্রিকেট ছাড়া কোন খেলার কথা জানেইনা খেলা তো বহু দূরের বিষয়।

বুধবার, ১৭ মার্চ, ২০২১

আঞ্চলিক ভাষা - নিমু মাহবুব

 শিক্ষক নার্সারি ক্লাসে ছাত্রছাত্রীদেরকে কয়েকটি পাখির নাম বলতে বললেন। তারা বিভিন্ন পাখির নাম বলল। এক ছাত্র বলল, কাউয়া। তাতেই পাশে বসা এক মেমসাহেব রে রে করে উঠলেন যেন ওনার কয়েকশ "নুনের ছালা" জলে পড়ে গলে গেল। কি গাঁইয়া! গেরামের ভাষায় কথা বলা। পড়া লেখা করতে এসেও ভাষাটাও শিখলনা! আহা! কোত্থেকে যে এসব গাঁইয়ারা স্কুলে আসে ইত্যাদি ইত্যাদি। 


এই তথাকথিত অতি আধুনিকা মহিলার আচরণ দেখে আমার গা জ্বলার বদলে হাসি পেল। এরা নিজেদেরকে ব্রাহ্মণ্যবাদি এলিট শ্রেণীগত মনে করে। গ্রামের ভাষায় কথা বলা মানুষদেরকে এরা নিচু জাতের মনে করে। এরা মনে করে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলা আভিজাত্যের কারণ। তাই তারা গ্রামের ভাষাকে, আঞ্চলিক ভাষাকে ঘৃণা করে আত্বতৃপ্তিতে ভোগে। মায়ের ভাষায় কথা বলার জন্য যে জাতি জান কোরবান করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে,  তারাই আজ এদের কাছে মায়ের ভাষায় কথা বলার জন্য ঘৃণিত আর নিচু জাত বলে বিবেচিত। 


শহরে বসবাস করে, শুদ্ধ ভাষায় কথা বলার কারনে কেউ অভিজাত কিম্বা এলিট হয়ে যায় না। গ্রামের ভাষায়, আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলার জন্যে কেউ নিচু হয়ে যায়না। এই সত্যটা সবার বুঝা উচিত। কারণ  প্রত্যেকটা ভাষাই রাহমানুর রাহিম আল্লাহ্ তা'য়ালার সৃষ্টি এবং প্রত্যেকটা ভাষা মানুষকে তিনিই শিখিয়েছেন। (দেখুন সুরা আর - রহমান) আজ এরা শহরে বাস করে বলে গাঁয়ের ভাষাকে ঘৃণা করে। কাল এরা যদি আমেরিকা বা ইউরোপে চলে যায় তবে তখন পুরো বাংলা ভাষাকেই ঘৃণা করবে।

এই লেখার উদ্দ্যেশ্য কোনভাবেই শুদ্ধ ভাষাকে অস্বীকার করা নয়। 


শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

অসহায় হুজুরের লজিং বাড়ি - নিমু মাহবুব

মিয়া বাড়ির পোলাপান গুলোরে আদব-লেহাজ শিখানোর জন্য একজন হুজুর দরকার। হুজুর কাছারিঘরে থাকবেন। তিন বেলা খাবেন। প্রতিদিন সকালে  বাচ্চাকাচ্চাদেরকে "কায়দা-আমপারা",  সুরা-কেরাত,  দোয়া- দুরুদ  শিখাবেন। পাঁচ ওয়াক্ত সময়মত আযান দিবেন যাতে বাড়ির মহিলারা নামাজ পড়তে পারেন। 

একজন হুজুর আসলেন। দুপুরবেলা বাটি ভরে ভাত আসলো।  তরকারি বলতে শুধু বাটা মরিচ। অভুক্ত পেট, তাই খেলেন কিছুটা। রাতে ভাত আসলো, তরকারি আবারো মরিচ! দুপুরে উনাপেটে ছিলেন। তাই সকালে ভালো কিছুর আশায় কিছুটা গলাধঃকরণ করলেন। সকালে আবারো ভাত আসলো। আশা  আর ভয়ে তরকারির বাটি  উল্টালেন। আক্কেল গুড়ুম!  সেই বাটা মরিচ!! মরিচের বাটি ভাতের বাটির উপর রেখে হুজুর পালিয়ে গেলেন। 

কিছুদিন পরে আরেকজন হুজুরকে নিয়ে আসা হলো। 

সকাল, দুপুর আর রাতে ভাতের সাথে বাটা মরিচ আসলো। এই হুজুর দেড় দিনের বেশি টিকতে পারলেন না। 

আবার নতুন হুজুর আনা হলো। দুপুরে, রাতে আর সকালে ভাতের সাথে মরিচও আসলো। সকালেই সবার অজান্তে হুজুর বিদায়ও নিলেন।   

 হুজুরদের সাথে মিয়াবাড়ির মহিলাদের মরিচ মরিচ খেলা এভাবে চলতে পারতো যদিনা ব্যতিক্রম একজন হুজুর  আসতেন।

তো আবারো নতুন হুজুর আসলেন। দুপুরে রীতিমত ভাতের সাথে বাটা মরিচও আসলো। বাটির অবশিষ্টাংশ খাবার দেখে মনে হলো হুজুর খুব ভালো মতই তৃপ্তিসাধন করলেন। রাতে আর সকালেও মরিচের পুনরাবৃত্তি হলো। হুজুর মাইন্ড করলেন বলে মনে হলোনা।  একদিন যায়,  দুইদিন যায়।  ভাতের সাথে বাটা মরিচও আসে। সেই মরিচের বাটি খালি হয়ে আবার ফেরতও যায়। এভাবে দিন যায়।  রাত আসে। রাতের পরে চক্রাকারে দিন আসে। আর একই চক্রে হুজুরের জন্য ভাতের সাথে তিনবেলা বাটা মরিচও আসে । হুজুর তা দিয়েই ভাত গলাধঃকরণ করেন। 

এভাবে এক সপ্তাহ পার হলো। অষ্টম দিন সকালে মরিচ দিয়ে হুজুর ভাত খাওয়া সবেমাত্র শেষ করলেন। হঠাৎ করে কাছারির বেড়ার ওপাশে কারো মিটমিটে হাসির আওয়াজ শুনা গেল। হুজুর সালাম দিলেন।  মৃদুস্বরে সালামের জবাব আসলো। তারপর কোরাস করে হুজুরের প্রতি প্রশ্ন আসলো, " হুজুর!  এক সপ্তাহ শুধু মরিচ দিয়ে ভাত খেয়েও কেন চলে গেলেন না? আপনার আগে অনেক হুজুর একদিনও টিকলেননা"  

হুজুর বললেন, " আমার যাবার কোন জায়গা দুনিয়াতে নাই। নদী সব নিয়ে গেছে। যাবার জায়গা পেলেও খাবারের কোন ব্যবস্থা নেই। এখানেতো মরিচ দিয়ে হলেও খেতে তো পারছি।"

বেড়ার ওপাশে মহিলারা কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে রইলেন। তারপর বললেন, " হুজুর! আমাদেরকে মাপ করে দেন। আমরা জানতান না। আমরা শুধু একটু পরিক্ষা করে দেখতে চেয়েছিলাম। আসলে আমাদের বাড়িতে বাজার সদাই করার মত কোন পুরুষ নেই। সবাই চাকরি - বাকরিতে দূর- দূরান্তে  থাকেন। আমরা মহিলারা ও বাজারে যেতে পছন্দ করিনা।

এখন আপনি যদি রাজি থাকেন তাহলে আমরা টাকা দেবো। আপনি বাজারে যাবেন। আপনার যা খেতে মন চায় কিনে নিয়ে আসবেন। ইলিশ মাছ খেতে চাইলে ইলিশ মাছ আনবেন, গরুর গোস্ত খেতে মন চাইলে গরুর গোস্ত আনবেন। যা আপনার মন চায় কিনে আনবেন। আমাদের কোন অভিযোগ নাই।"

কাছারিঘরের ভিতর থেকে হুজুর পড়লেন " আলহামদুলিল্লাহ"

রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০

কান নিয়েছে ছিলে



 চমকে গেছে পিলে

শুনে, "কান নিয়েছে ছিলে"

গাঁঞ্জা ছ'সের গিলে

তারা সবাই মিলে

দৌড় দিছে দোর খিলে।

"ছিলটা গেল কই"?

"কড়ই গাছে ঐ"

"আনো একটা মই"

"কানটা কেড়ে লই"

" কিন্তু ওরে এ কি!

"ছিলের কাছে দেখি"

কানটা তো নাই ঠিকি।"

হাতটা দিয়ে কানে

"ওরে, কানটা যথা স্থানে।"😁😁

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০

শিয়াল চায় মুরগির স্বাধীনতা- লিখেছেন নিমু মাহবুব।

 



অনেক অনেক দিন আগের কথা। এক রাজ্যে অনেক মুরগি সুখে - শান্তিতে বাস করতো। তাদের কোন ভয়- ডর ছিল না। তারা যেখানে খুশি যখন - তখন বেড়াতে পারতো। কেউ তাদের বাধা দিতো না। হঠাৎ একদিন রাজ্যে কতগুলো শিয়াল আসলো। তারা সুযোগ পেলে গোপনে মুরগিদেরকে ধরে নিয়ে খেয়ে ফেলতো। এতে করে রাজ্যে মুরগিদের রাজা একটা নতুন আইন করলেন। আইন অনুযায়ী মুরগিরা যেখানে- সেখানে বেড়াতে যেতে পারবেনা। ফলে মুরগিরা বাইরে ঘোরাফেরা করা বন্ধ করে করে দিল। শিয়ালরা দেখল,  তারা আর আগের মত মুরগিদেরকে শিকার করতে পারছেনা। এবার ভিন্ন এক চালাকি শুরু করে দিল। তারা ঘোষণা করে দিল, তারা এখন থেকে আর মুরগিদেরকে ধরে নিয়ে খাবে না। মুরগিরা যেন যখন- তখন যেখানে সেখানে বেড়াতে যায়। কিন্তু আইনের ভয়ে কোন মুরগি বেড়াতে যেতে সাহস করলোনা। তাই শিয়ালদের কৌশলে কাজ হলোনা। এবার তারা নতুন এক ফন্দি  বের করলো। তারা বলল, এই রাজ্যে মুরগিদের কোন স্বাধীনতা নেই, মুরগিরা যেখানে খুশি বেড়াতে যেতে পারেনা। তারা সরাসরি মুরগিদের স্বাধীনতা চাইলো। অবুঝ  মুরগিরা তাদের কথায় প্রলুব্ধ হলো। ফলে তারা গোপনে বেড়াতে যেতে লাগল। আর শিয়ালরা একা পেলে মুরগিদেরকে ধরে খেতে শুরু করলো। এভাবেই শিয়ালরা মুরগিদের স্বাধীনতার দাবি জানাতে থাকলো। আর এতে করে তাদের মুরগি খাওয়ার কাজ হাসিল হলো।

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০

অনু গল্পঃ পুলিশি রিমান্ড

 


হইতকালে আঙ্গো গেরামে ওগ্গা ছোড নাইল গাছ আছিলো। হিগা কেলাস হাইবে হইড়তো। হিগার লগে তাল গাছের লাইন আছিলো। একদিন নাইল গাছগা তাল গাছের লগে হলাই যাই বিয়া করি হালায়। ইয়ান্দি নাইল গাছের মা- বাপ হিগারে টোগাই না হাই কান্দি- কাডি কইলজা হাডা হালায়। হরে হিগার বায় তিনগা সুয়ারি গাছের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করি দেয়। হুলিশ সুয়ারি গাছ হগলেরে ধরি লই যায়। হেইয়ার হরে হেগুনেরে হুলিশ রিমান্ডে নেয়। রিমান্ড শেষ অইলে হেগুনে কয় "আন্রা বেগ্গুনে মিলি নাইল গাছেরে মারি হালাইছি।  নাইল গাছের লাশ কাডি- কুডি খালে হালাই দিছি।" 

ইয়ান্দি ক'দিন হরে নাইল গাছের হিগার মা- বাপের লাই কইলজা জ্বলি যায়। হেয়াল্লাই বুলি হিগা হোন করিব হিগার মারে কয়, "মা, আঁই মরি নো। আঁই তাল গাছেরে বিয়া কইচ্ছি। অন তোঁগ্গোল্লাই আঁর হরান হুড়ি যায়। আঁই বাইত চলি আইয়াম"। এই কতা কই নাইল গাছ হিগার মা- বায়ের কাছে চলি আইয়ে। হুলিশ হিগার জামাই তাল গাছেরে ধরি লই যায়।  হিয়ার হরে তাল গাছেরে তিন দিন রিমান্ডে নেয় হুলিশ। এই ঘটনার হরে সুয়ারি গাছ হগলের ক'লে কি অইছে হেইটা কেও কইতো হাইত্তেছেনা।

© কপি রাইট Nimu Mahubu

কপি করা অমার্জনীয়। 

বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০

সুশীল মুসল্লি

 সুশীল মুসল্লি সাজতে চাইলাম। তাই হানাফি মাজহাবের বিপরীতে গিয়ে ইমামের পিছনে সূরা ফাতেহা পড়তে শুরু করছিলাম। কারণ হাদিসে আছে,  "সূরা ফাতেহা না পড়লে সালাত হয়না"। এ ক্ষেত্রে, "যার ইমাম রয়েছে, ইমামের কিরাতই তার কিরাত" কে থোড়াই কেয়ার করলাম। ইমামও পড়ে আমিও পড়ি। 

কিন্তু সুশীলগিরী আমার বেশিদিন সইল না।

 কারণ ইমামের সাথে আমার প্রায়ই মিলেনা। কেমন জানি গোলমাল লেগে যায়। কিছুদিন পর জেহরি সালাতে ফাতিহা পড়া ছেড়ে দিলাম। কারণ "যখন কুরআন পড়া হয় তখন তোমরা মনোযোগ দিয়ে তা শোনো ও চুপ থাকো" (আরাফ-২০৪) আমাকে শান্তি দিলোনা। কিন্তু আমাকে তো সুশীল মুসল্লি হতে হবে। তো? এবার যে সব সালাতে ইমাম আস্তে ক্বিরাত পড়ে সে সব সালাতে ফাতিহা পড়া শুরু করলাম। বিপত্তি তাতে গেল না। দেখলাম আমি ফাতিহার দু- তিন আয়াত পড়ার আগেই ইমাম সাহেব রুকুতে চলে যান। আমাকে মাঝ পথে থেমে যেতে হয়। কারণ আমি ইমাম সাহেবের মত দ্রুত পড়তে পারিনা। দ্রুত পড়তে গেলেই " কুরআন পড় ধীরে ধীরে স্পষ্টভাবে ও সুন্দরভাবে " (মুজ্জাম্মিল-৪)  আমাকে বারেবার চোখ রাঙ্গায়। আমি ভয় পেয়ে যাই। তদুপরি ওই হাদিসটি মনে পড়ে যায় যেটাতে বলা আছে, সুরা ফাতিহা যখন পড়া হয় তখন মহান আল্লাহ প্রতিটি আয়াত পড়ার পরে জবাব দিয়ে থাকেন। তো প্রতিটি আয়াতের পরে আমাকে ওয়াকফ করতে হয়। 

এখন আমি কি করবো? সুশীল মুসল্লি হতে পারলাম না। তাই আপাতত হানাফিতেই সমাধান। 

রবিবার, ২৪ মে, ২০২০

নদীর তীরে তিন লোকের কাহিনী।


তিন জন লোক চলতে চলতে একটি নদীর তীরে হাজির হলো। তারা নদী পার হওয়ার বিষয়ে ব্যক্তিগত ভাবে চিন্তা-ফিকির করতে লাগল।
 প্রথম ব্যক্তি নদী পার না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। সে ভাবল, নদী পার হওয়ার আমার কোন দরকার নেই। কারণ ওই পারে ভালো কিছু আছে বলে জানা নেই। আমি বরং এ পারে-ই ভালো আছি।  সুতরাং সে নদী পার হলো না।

দ্বিতীয় ব্যক্তি নদী পার হয়ে ওপারে চলে যেতে মনস্থির করল। সে ভাবল, ওপারে এপার থেকে অনেক ভালো কিছু আছে বলে এক  বিশ্বস্ত লোক জানিয়েছে। সে লোকটি আজীবন সত্য কথা বলেছে। জীবনে একটিবারও মিথ্যা কথা বলেনি। সুতরাং ওপারে নিশ্চয়ই এপার থেকে ভালো কিছু পাওয়া যাবে। অন্তত এপার থেকে খারাপ কিছু হবে না নিশ্চয়ই। তাই সে সাঁতরে কষ্ট করে নদী পার হয়ে ওপারে চলে গেল। 

তৃতীয় ব্যক্তি কি করবে ঠিক করতে পারলো না। কিন্তু এক পর্যায়ে সে নদীতে নেমে পড়ল। যখন সে নদীর মাঝখানে পৌঁছল তখন তীরের দাঁড়ানো লোকটি বলল, "ধ্বংস হতে কোথায় যাচ্ছো! তীরে চলে আসো।" আবার যে নদী পার হয়ে ওপারে চলে গেল সে বলল, " এ তীরে চলে আসো, মুক্তি পেয়ে যাবে আর আমার মত গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে। অর্ধেক তো চলেই এসেছ।" এখন সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে একবার এদিকে আবার ওদিকে তাকাতে লাগল। সে দোদুল্যমান অবস্থায় পড়ল। এমন সময় বিরাট এক ঢেউ এসে তাকে তলিয়ে নিয়ে গেল। ফলে সে মৃত্যু মুখে পতিত হলো।
এখানে নদী অতিক্রমকারী ব্যক্তি হলো মুসলমান। নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি হলো কাফির।  আর ডুবে মৃত্যু বরণকারী হলো মুনাফিক। 

(মুসনাদ-ই ইবনে আবি হাতিমে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত মাওকুফ হাদিস অবলম্বনে তাফসীরে ইবনে কাসিরে সূরা আন- নিসার ১৪৩ নং আয়াতের তাফসীর থেকে।)

শনিবার, ২৩ মে, ২০২০

মশা ও মানুষঃ প্রেক্ষিত নাস্তিকতা - নিমু মাহবুব

কিছু মানুষ আছে যারা বলে, "যা দেখিনা তা মানি না। 
সুতরাং সৃষ্টিকর্তাকে দেখিনা, তাই সৃষ্টিকর্তা বলে কেউ নেই।"
কিন্তু তাদের আকল একটা মশার চেয়েও আড়ষ্ট। কারণ মশাও না দেখে অনেক কিছু বিশ্বাস করে। যেমন আমাদের চামড়ার নিচে যে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে মশা কিন্তু তা না দেখেই একশভাগ বিশ্বাস করে।

♣ মশার কিছু আশ্চর্য্য ক্ষমতা জেনে নেয়া যাক।

♦ আমাদের নিঃশ্বাসের মাধ্যমে মশারা আমাদের উপস্থিতি টের পায়। মানে আমরা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে যে কার্বন ডাই- অক্সাইড ত্যাগ করি তা থেকে যে ঘ্রাণ বের হয় তা আমরা টের না পেলেও মশা কিন্তু টের পায়।

♦ আমাদের ঘাম থেকেও মশারা আমাদেরকে খুঁজে পায়।

♦ মশারা কিন্তু আমাদের চামড়ার নিচের রক্তের গ্রুপের টাইপও ধরতে পারে। অথচ মানুষ পরীক্ষা করার আগে তা জানতে পারেনা। মশা "ও" গ্রুপের রক্তধারীদের ২ গুন বেশি কামড়ায় "এ" গ্রুপধারীদের চেয়ে।

♦ শুধু মহিলা মশাই আমাদের রক্ত খায়। পুরুষরা আমাদের আশেপাশে তেমন একটা ঘেঁষে না।

♦আপনি কি কখনো বংশ বৃদ্ধির জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি নিবেন? মশারা এমন একটা প্রাণী যারা বংশ বৃদ্ধির জন্য জীবনের ঝুঁকি নেয়। মানে মশার ডিম পাড়ার জন্য প্রোটিনের প্রয়োজন হয় যা সহজেই মশা পায় মানুষ ও প্রাণীর রক্তে।

♦ মশা ঘুমন্ত আর জাগ্রত মানুষের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। আমরা অনেক সময়ই ব্যর্থ হই।

♦ ১৫০ ফুটেরও অধিক দূর থেকে মশা আমাদের নিঃশ্বাসের গন্ধ টের পায়। ৩০ ফুটেরও অধিক দূর থেকে মশা আমাদের সরাসরি দেখতে পায়।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২০

নাতিশীতোষ্ণ এই শরতের স্রোতে- নিমু মাহবুব

নাতিশীতোষ্ণ এই শরতের স্রোতে
রাতের আকাশে যার একা বিচরণ,
শিশির কণারা তার জোছনা পোহায়
বিগলিত হয়ে উঠে মজনুর এই মন।

রাতের বাতির আলো আমনের ক্ষেতে
মাধবী বর্ণ দেখো করেছে ধারণ,
শান্ত ধানের পাতার পুলকিত মন
বহুদিন আসেনিতো পুবালি পবন।

যে আবহ মিলে গো শুধু জান্নাতে
কি করে এলো তা এই দুনিয়াতে,
সিজদায় নুয়ে পড়ে সচেতন জন
য্বিকিরে রাখে তার নাম সারাক্ষণ।